বুধবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৭

এই আশ্বিনে

পাতাবাহারের দুই ডাল ছুঁয়ে
দোল খাচ্ছিল তন্তুজাল
এবার তার গা গড়িয়ে পড়ল একফোঁটা
মুক্তোর দানার মত টল টলে সাদা
গড়িয়ে এসে ঝরে পড়ল মাটিতে
আর ডেকে আনল রিম ঝিম শব্দ
ধুইয়ে দিল চরাচর
সূর্য ছুটি নিয়েছে আজ
তার সাথে আমি ও
দৈনন্দিন কজের স্রোত আজ নেই
সব কেমন নিস্তরঙ্গ
অলস মধ্যাহ্নে দু কান জুড়ে বাজছে
শুধু রিম ঝিম নেশা মাখা শব্দ ।

শুক্রবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৭

জীবন

ইষ্টিশনের নাক বরাবর যে রাস্তাটা
সোজা ফেরিঘাটে নেমে গেছে
সেই রাস্তার ধারেই কেওড়াপাড়া
ওখানেই ও থাকে
রাস্তার ধারের বড় বাড়িগুলোর পেছনে খাপরার চাল
সারি সারি ঘর গুলো দালান গুলর পিছনে লুকিয়ে আছে
সকালের আলো এসে ডাক দিলে ঘুম ভাঙ্গে
মা এক সানকি ভাত দিলে
চেটে পুটে খেয়ে বেরিয়ে পড়ে বিজু
পরনে ঢল ঢলে জামা নাকে সিকনি হাতে ছড়ি
মুখে হেট হেট কুরর চল চল শব্দ
সেই শব্দ শুনে শোভাযাত্রার মত এগিয়ে চলে
থলথলে পেট পাকানো ন্যাজ আর  ছুঁচলো মুখ ওলা জন্তুগুলো
গায়ে কালকের শুকনো কাদা সাদা হয়ে ফুটে আছে
অবিরত খাল পাড়ের কাদায় কি খুঁজে চলেছে মুখ ডুবিয়ে
ছোট ছোট  পায়ে খুট খুট করে এগোয়
যেতে যেতে সেই গঙ্গার পাড়
সেখানে কাদা ময়লা খুঁচে খায় আনন্দে ডাক দেয়
ওখানে বিজুর মত আরও কয়েকটা বিজু জুটে যায়
ওরা দিনভর জন্তু গুলোর মতই খেলা করে দোল খায় গাছের ঝুরি ধরে
কখনও ঝগড়া করে মারপিট করে
আবার ভাব হলে কোঁচড় ভরে আনা চিঁড়ে মুড়ি খায়
চেয়ে থাকে গঙ্গার ওপারে সুজ্যি ডোবার আশায়
তবেই তো ঘরে যাবে এক সানকি ভাত খেয়ে খুব ঘুম পাবে
আর তখনই তো দেখতে পাবে কত সুন্দর সুন্দর স্বপ্ন।


বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

শবযাত্রা

বাড়ীতে একটা ফাটল দেখা গিয়েছিল
খুবই সূক্ষ একটা চুলের মত
কেউ পাত্তা দিলনা ব্যাপারটা
কিন্তু ওই ছুঁচ টাই ফাল হয়ে গেল
খুব ধীরে ধীরে ফাটলটা বড় হাঁ এর মত হল
সেই ফাঁক দিয়ে ক্রমাগত বেরোতে থাকল
নোনা ধরা মরচে মাখা পুরনো সম্পর্ক গুলো
বাতাস কেমন ভারী হয়ে গেল
যেন রাস্তা দিয়ে শবযাত্রা চলেছে।
আমাদের গাঁয়ের বাড়ির ধারে
ধানক্ষেত টা ছিল সবুজ চোখ জুড়নো
তাতে ঢেউ তুলে হাওয়ায় দুলতো ধান
ধানক্ষেতের জলে খেলা করত
ল্যাঠা কই চিংড়ি
কালো জলে বুজগুরি কাটত কি সুখে
কে যেন বুদ্ধি দিল ধানের ফলন বাড়াতে
ক্ষেতে ছড়ানও হল বিষ
তারপর জল নেই তাই মাছ নেই
ধানের বুক রোদে শুকনো সেখানে দুধ নেই
ইঁদুরের গর্ত বেমালুম ফাঁকা
সেখানেও শোক
গর্তে হাত ঢুকিয়ে লাভ হলনা
বুনিদের বাহাদুর দের
আবার শবযাত্রা
একজনকে মারতে কতজন মরে গেল।

শুক্রবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

এই ভাদ্রের দিনে

 ধবনি আর ব্যঞ্জনায় ভেসে যাচ্ছে
ভাদ্রের দিন গুলো
আকাশের আলো মুখ চাপা দিয়ে দিল
কালো কালো হরফ
জলজ টিং টাং সুর
ছেয়ে গেল আনাচে  কানাচে
এভাবেই ভিজে গেল গোলাপি বরষাতি
ধুয়ে গেল সদ্য সারানো পীচ পথ
ভেসে গেল নোংরা ফুটপাত
যেখানে গত কয়েকদিন ধরে সংসার পেতেছিল
একদল উৎখাতি মানুষেরা
যাদের গ্রাম হয়ে উঠেছিল
এই অদ্ভুত শহর টি।

বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৭

পামুক এবং তক্তপোশ

ওরহান পামুক অথবা তক্তপোশ
দুটোই তোমার খুব প্রিয়
এবিষয়ে কোনই সন্দেহ নেই
তুমি ভালবাস এদের
তাই তর্জনী ছুঁইয়ে
রাত নামাও যখন ঘরে
তখন তক্তপোশ তোমায় সবপ্ন দেখায়
হারানো সবপ্ন খুঁজে দেয় তোমাকে
রাত শেষে রোদ ওঠে
যেন ইলিসের পিঠ
দিন জাগে তুমি ব্যস্ত হও
আর দিন শেষে তুমি ডোব
ওরহান পামুকে ।

মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭

আশীর্বাদ


তুমি চুপ করে থাক
আমি সেতার বাজাই
জ্যোৎস্নার মত ছুঁই চড়াই উতরাই
সম্বৎসর কাল এই সেতার বাদন
এই যে জমিন জরিপ
এই যে কাস্তে চাঁদের রাত
এই যে সেতারের বাজনা
 হয়ত এসবের জন্যই
স্বর্গের বাগানে
খসে পড়ে দুটি ফুল
 ঈশ্বরের আশীর্বাদের মত ।



শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭

জন্ম --মৃত্যুj

জন্ম নিলাম খেলতে খেলতে
এই যে জন্মালাম এর সম্পূরক কি
মৃত্যুই তো
তাই মৃত্যুর দিকেই যেতে চাই
সারাজীবন ধরে মৃত্যুর দিকেই হামাগুড়ি
আঁধার গলিপথে না দেখা গন্তব্যে
জন্মের আরও আগে ফেরা যাবেনা
সেখানে মৃত্যুর পাহারা
চৌকিদারের মত
জীবন কে রক্ষা করে মৃত্যুই
পথশ্রমে ক্লান্ত সময়
আবার নতুন করে জাগে
মৃত্যুর কোলে বসে।

মায়ের ছুটি

ছোট থেকেই দেখছি মা গো নেই তো তোমার ছুটি শীত গ্রীষ্ম  সকাল বিকাল কাজ যায় ঠিক  জুটি মুখের কোনে চিলতে হাসি লেগেই আছে যেন কাজ করতেও  এত খুশী দেখ...