রবিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৩

মায়ের ছুটি



ছোট থেকেই দেখছি মা গো
নেই তো তোমার ছুটি
শীত গ্রীষ্ম  সকাল বিকাল
কাজ যায় ঠিক  জুটি


মুখের কোনে চিলতে হাসি
লেগেই আছে যেন
কাজ করতেও  এত খুশী
দেখিনি কক্ষনো

পড়তে পড়তে হাঁফাই আমি
তোমার ক্লান্তি  নেই
একটু করে হচ্ছি বড়
তুমি মা ঠিক  সেই

বিপদ থেকে আগলে রাখো
ভয় ভাবনা দূরে
তোমার ছোঁয়া মাথার ওপর
ঘুমপাড়ানীর  সুরে

সূয‍্যি মামা ওঠার আগেই 
তুমি ওঠো রোজ
এসব পারো কেমন করে
রাখিনি তার খোঁজ 

আজকে দেখ ভোর হয়েছে
সূর্য গেছে উঠি
তবুও  তোমার চোখটি বোঁজা
মাগো, আজ নিলে কি ছুটি?

শুক্রবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৩

বোধ



 কৌশলী বাঁচতে 
কন্দরে গচ্ছিত রাখি পরমায়ু
প্রাণায়ামে নেমে আসি পৃথিবীতে 
কান্না খাই অনায়াসে
হাসির কিংখাবে জড়াই 
দুঃখ অপমান অবমাননা মোছাই অজুহাতে 
জানি প্রতারণা  এক শূন‍্যতা আনে
তবু জাগি, নতুন মায়াশরীর ঘেরে 
করুণা ও ক্ষমায়
ম‍ৃতপ্রায় হয়েও আমি খুঁজি জন্মকোলাহল
এভাবেই বাঁচা শিখি

  যে শেখালো এইসব
সেই শিখিয়েছে,না কে না বলতে।

বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২২

উপেক্ষা

এখন শুধু উপেক্ষা
কোন কান্না না  হাসিও না
কোন ভালোবাসা বাসি না
দায় না দায়িত্ব না
প্রয়োজন না অনুযোগও না
অভিমান  ভরা অভিযোগও না
অসূয়া মেশানো অভিশাপও না

কত নির্মোহ রাত পেরিয়ে এসে
এক  আকাশ শূণ‍্যতা নিয়ে
এখন আমার হাতে আছে 
শুধুই উপেক্ষা।

রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২২

আরো একটা জন্ম

প্রতিটা দিনই এক নতুন জন্ম
মায়াবী চাঁদের রাত শেষ হলে
একটা অলৌকিক ভোর হয়
আবছা কালি মোছে সোনালী আকাশ 
স্নিগ্ধ হাওয়া সুপ্তোথিতা পৃথিবীতে
শীতল পুণ‍্যশ্লোক 
সেই মুহূর্তে আর কোন শব্দ নেই
আর কোন রঙ নেই
শুধু শান্তি  শুধু নীরবতা
শুধু নিজেকে নিজের সাথে মিশিয়ে দেওয়া 
আকাশ তখন এক মহাসমুদ্র
সেই সমুদ্রে জন্ম নেয় তরঙ্গ
আমাকে  জাগায় আরো একটা জন্মের জন‍্য।

শনিবার, ৬ আগস্ট, ২০২২

অন‍্য খান্ডবদাহন

আর একটা খাণ্ডবদাহন
অযাচিতভাবে অতর্কিতে ,
দগ্ধে ছারখার বন, বনস্পতি ,
এক উদর সহবাসীরা ছত্রখান ।
লেলিহান শিখায়
ঈর্ষার চকমকি ,
সবুজ চোখের নীল নিঃশ্বাস 
সন্তর্পণে সাঙ্গ করল স্মৃতি।
কোন রোগের উপশম করতে
এই অবাঞ্ছিত খাণ্ডবদাহন ?


বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০২২

আকাশের পথে

আকাশ গন্তব্যে
উল্কাপাতের কাহিনী,
এক ফুঁয়ে আরোহন
জনপদ ছেড়ে।

রূপালী ডানার উড়ান
মেঘ বরাবর।
আলগোছে রোদে,
পড়ে থাকে স্বজন ,জীবন।

উড়ান আবহে ভাসে 
শীতাতপ মাপা হিমেল সুগন্ধ
মুঠোয় নিস্তব্ধ মোবাইল।

 ল্যাপটপ জাগে
অনামিকা বিভঙ্গে,কফির চুমুকে,
চোখের পাতায়।

উড়ানের শেষে
পরিযায়ী পাখী পথ খুঁজে
নেমে  আসে টুপ করে
আমার আকাশ থেকে
তোমার শহরে।

সোমবার, ১ আগস্ট, ২০২২

আঁচ

অলস দুপুরে  না কি রোদ সোজা হয়
অনেক তীব্র ও জোরালো
পুড়িয়ে ঝলসে দেয় কখনও কখনও 
দেহ ও নিঃশ্বাসের
প্রাত্যহিক জীবন যাপনেও
মাঝে মাঝে রোদ্দুর কর্কশ  
তবুও বাতাস ভাসে চন্দনের বনে

কি করে ভুলি 
এই ভালোলাগা শীতে
প্রথম রোদ্দুরের আঁচ দিয়েছিলে তুমিই।

মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই, ২০২২

তুমি

আকাশের নীল ফুরিয়ে এলে 
মনে হয় ফেরার সময় হল
অথচ এই অবেলায়
তুমি সেজে উঠছো মৃদু প্রসাধনে
কপালের লাল সংকেত 
পদ্মরাগ মণি হয়ে ফুটে আছে
লাস‍্যময়ী  রহস‍্য জালে
জড়িয়ে ধরছো পুরুষ ঊর্ননাভকে
সে বরবাদ হতে চায়

এই  মরণযজ্ঞে 
প্রতারণা একমাত্র লেলিহান শিখা
যা ঘিরে আছে ভালোবাসা হয়ে
আর তুমি তো নিমিত্ত মাত্র।

রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০২২

পরিবেশন

কুচোনো আনাজের মত জড়ো করেছি
তোমার বলা না বলা  সংলাপ
অতিরিক্ত ভালোবাসা তুলে রেখেছি মিটসেফে
হৃদয় দ্রব করা সব আবেগ
কাঁচের জগে ভরেছি সযত্নে 
খাবার তৈরীর সময় একটু একটু করে মেশাবো
হালকা নোনতা গরম জল
খাবারের স্বাদ অনেকটা বাড়িয়ে দেয়
বাড়তি ঘটনা সংরক্ষিত রাখব এয়ারটাইট স্টোরেজ বক্সে
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পরিবেশন করা হবে ওগুলো

যত্নে বানানো এসব রান্নার
পরিবেশন
সবসময়েই  খুব   হৃদয়গ্রাহী হয়।

বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০২২

বাগান

 

প্রতিটা  বাগান খোঁজে ফুল ও ভ্রমর

তবুও সময় চলে গেলে, সকল শব্দই নিরুত্তর

নিঃসঙ্গ হয় চরাচর

 

বেলাশেষে ভাঙ্গা গানে  তরী ডোবে নদীটির বুকে

শুধু একটা প্রশ্ন জেগে থাকে

তুমি কি দিয়েছ আমাকে ?

 

কিছুই দেয়না কে্‌উ ,দুই হাত নিতে শুধু জানে

হৃদয়কে ভালোবেসে  বাগানের ফুল বোঝে

আনন্দ গ্রহণে না, দানে

 

 দিইনি কিছুই তবু, কেন মনে হয়  ?

ভালোবাসা হেরে গেছে------

এখন বাগান জুড়ে হেমন্ত সময়।

 

 

                 ছুটি

 

 আমন্ত্রণ জানালো যে আকাশ

তার প্রতি কৃতজ্ঞতা

পেয়েছে  একটু ছুটি    বন্দী  জীবন

ঘর ছেড়ে  একা হতে ইচ্ছা  হয়

পরীর মতন উড়ে যাই

নয়ত ফুলের মতন ফুটে থাকি  কোন অজানা বাগানে

 একটা ছোট্ট  পাখি  দূর আকাশে ভেসে যাব

আর ফিরবনা কোনদিন

আমার প্রাত্যহিক ভুল গুলো ভুলে যেও

পুরনো চিঠির মত হারিয়ে ফেলো সব

 

 আমি না থাকলেও আর সবই থাকবে

 দেখো সব নিজ নিয়মে ঘটবে প্রতিদিন

যেমন ঘটত আমি থাকতে তেমনি আমি না থাকলেও।

 

 

যোজনগন্ধা

এইখানে এই আকাশের তলে
রৌদ্রময়   যমুনার জল 
প্রতিদিনকার খেয়া পারাপার
সব কিছু থেমে গেছে
এ দুটি মৃণালভুজ আর বাইছে না দাঁড়

বাতাসে ভাসে ডিঙিখানি একা
দূরে দূরে আছে কিছু লোক
তারি মাঝে বুকে নিয়ে যৌবনভার       
আমি  সত‍্যবতী পদ্মপলাশ দুটি  চোখ 

সেদিন ডিঙার যাত্রী ঋষি পরাশর
 কামার্ত দুটি চোখ তৃষ্ণার্ত স্বর
"কামনা করেছি কন‍্যা তোমার  অন্তর"
আকস্মিক সম্ভাষনে কাঁপি থরথর

জলদগম্ভীর স্বর বুকে এসে বাজে
কোথায় লুকাবো আমি তা বুঝিনা যে

 সামান‍্য ধীবর কন‍্যা আমি
তার সাথে ঋষিবর একি পরিহাস!
কুমারীত্ব বিসর্জন হবে যমুনার বুকে
রৌদ্রস্নাত দিনে এই উজ্বল আলোকে
অভয় দিলেন ঋষি সম্ভোগের পরে
মুল‍্যবান কুমারীত্ব পাব আমি ফিরে
দিবস আঁধার হবে লজ্জা যাবে ঢাকা 
হবে মৎসগন্ধ পরিবর্তে পদ্মগন্ধ মাখা

রবিবার, ১০ জুলাই, ২০২২

মধ‍্যরাতে বুদবুদ

দুদ্দাড় পেটাতে পেটাতে
হাটকে বেরিয়ে এল লালচে অভিযোগ
চোখ আর ত্রিভুজের কৌণিক অলিন্দ ভেসে নদী তার তীর বরাবর
মাউস চালাতে চালাতে রোদ শেষ
আঙ্গুলের গাঁটে ফুটে চুমু
তারপর এক ঘর ক্ষমা হল
এক জানলা আকাশ 
দেওয়াল সময়ে হাত গুলো লাফালাফি করে অনেক রাত
কথার ভাঁজে গুঁজে দিতে
আর কোন বেড়াল নেই
আর কোন হাপিত‍্যেশ নেই
শুধু অন্ধকারে বুড়বুড়ি কাটছে
আলস‍্য জড়নো ঘুম ঘুম অকবিতা।

রবিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২২

শস‍্যভূমি



আলোমাখানো ঐশ্বর্যে ভরপুর শস্যভূমি

 ম ম ঘ্রাণে মুগ্ধ    নবান্নআকাশ

  মাস পোহালে  সেই আবার উদাস

   নিরাভরণ ধূ ধূ  

 তখন সমস্ত জুড়ে  শূন্য  নেই নেই হাহাকার

   কোন জন্মগন্ধ নেই

   কোন ঢেউ খেলানো স্বপ্ন  নেই

  শুধু বিলিয়ে দেওয়া  শুধু  পরিণত হওয়া

   এক অবধারিত রূপান্তর সেখানে

 তবু সাফল্য আর হাহাকার জড়িয়ে খাঁ খাঁ পড়ে থাকে

একটা ধারাবাহিক সূচনা ও সমাপ্তির গল্প।


                

শুক্রবার, ৮ অক্টোবর, ২০২১

বন্দী

বুধবার, ৬ অক্টোবর, ২০২১

ধ্বনি




বাগানে কাঁঠালচাঁপার ঝোপে

চাপ চাপ অন্ধকার

সেখানে কারা যেন যাওয়া আসা করে

পরিত্যক্ত বুকের ওপর

অদম্য ইচ্ছারা কিলিবিলি নকশা তোলে

কালো রাতের নিস্তব্ধতা ভেদ করে

সেই গোপন চলনবিলাস, অভিসার

সেই মর্মর ধ্বনির  মূর্ছনায়   শিহরিত হই

বেহুঁশ জেগে থাকি একা, নিস্পন্দ আমি 

বিবশ শরীরে।

 

                         ২

          গান /অপর্ণা বসু

ইদানীং   গানে ঢুকে পড়ছে 

সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১

বন্দী

 অন্তরীণ থাকতে থাকতে দেখছি

ঋতু বদলাচ্ছে পৃথিবী

শূন‍্য ডালে জাগছে কচি কিশলয়
কৃষ্ণচূড়ার লাল ছড়িয়ে আছে
কখনও ঝরঝরিয়ে নামছে শ্রাবণ
চারিদিকে মনভোলানো সবুজ
আবার পেঁজা তুলোর আকাশে
হিমেল বাতাসে শিউলির গন্ধ
জানলার  ওপারে অকপট নীলাভ নভতল
তাকে ছুঁয়ে ডানা ভাসাচ্ছে 
একদল মুক্ত বিহঙ্গ

শুধু আমরাই ঘরে বন্দী

ওরা সবাই আগের মতই
ওদের মুখে কোন মুখোশ নেই।

মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৯

মন কেমন করেনা

শীর্ণ স্মৃতি গুলো
আর রোমন্থন করিনা
টাটকা সতেজ বাতাস
ঘিরে আছে আমার চারিপাশে
টুং টাং গীটারে
রোদ ঝলমলে দুপুর নামে
গোধূলির আকাশে   রক্তকরবী
ওই দূরের মন্দিরের ঘণ্টা ধ্বনির সাথে
ভেসে আসছে শীত ঋতু
আজকাল  সাহচর্যের জন্য
আর মন কেমন করে না।

শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯

ভালবাসার গল্প




 আমি খুব কাছে আসি
 তোমার গন্ধ নিই
 আবেশে  চোখ বুজে আসে
 মদির গন্ধবাতাস বুকে কুল কুল শব্দ তোলে
  সেই সুরে  ভিজে  ওঠে করতল
 ঠোঁটের নির্জনতায় ভাগ বসায়
 বিকেলের ঠাণ্ডা বাতাস
 আচমকা থর থর করে কেঁপে উঠি
 আমি একটা নদী হই
 আর  তুমি গাছ ভরা শিউলি
 কেমন ঝিকমিক তারা হয়ে ওঠো

    

রবিবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

জন্মপো কা





সাপুড়ের বীণে নাচে ফনা
পর্দা ভেদ করে
চেখে দেখে নাভিপদ্ম
আপেলে কামড় বসায়
স্বাদ নেয় নিষিদ্ধ জীবনের
গর্ভ আঁকড়ে বাঁচে পুস্প
যন্ত্রণা জীবন জাগায়
জল আর যন্ত্রণায় ভেসে
একদিন জন্মপোকা নড়ে।
                                                4


সোমবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৮

বাহ্

               
বাহ্! মানিয়েছে তো খুব, কবি সাজে
পরিপাটি সেই কেয়ারলেস বিউটি
ঠোঁটে চিলতে হাসি নিয়নবাতি যেন
আবেগঘন কণ্ঠস্বরে বিরাম ও যতি
গোপনে তুলে রাখা ঈর্ষা  হিংস্র শ্বাপদ
আয়ত   নিস্পাপ চোখ সরল চাউনি
নন্দিত শ্রীময়ী ও মনোহারিণী রূপ
তাহলে  কবি বলব, নাকি অন্য  কিছু ?

অনর্গল ভাবনা অর্থহী প্রলাপ
কষ্টে সৃষ্টে রচিত শব্দতরঙ্গ জুড়ে
জানি  প্রকাশ্যে সেই কবিই হতে চাও
 তবু কেন আজও অধরা কবিতারা
কবিতা  তো ঈশ্বরের আশীর্বাদে আসে
 স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মানুষের কাছে।  



মায়ের ছুটি

ছোট থেকেই দেখছি মা গো নেই তো তোমার ছুটি শীত গ্রীষ্ম  সকাল বিকাল কাজ যায় ঠিক  জুটি মুখের কোনে চিলতে হাসি লেগেই আছে যেন কাজ করতেও  এত খুশী দেখ...